চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলেও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ধসের চিত্র দেখা গেছে, যেখানে মাত্র ৪৮.০৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাসের সাফল্য অর্জন করেছেন। তবে সামগ্রিক ফলে টানাপোড়েন থাকলেও ছেলেদের হারিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছেন নারী শিক্ষার্থীরা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার ফল একযোগে প্রকাশ করা হয়। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, ইংরেজি ও উচ্চতর গণিত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ফেলের হার বেশি থাকায় এবারের সার্বিক ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
কুমিল্লা
শিক্ষা বোর্ডের মূল তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট
৯২ হাজার ১৬২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায়
অংশ নিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে সফলভাবে পাস করেছেন ৪৪ হাজার ৭২৭
জন। মেধার সর্বোচ্চ শিখর জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন
সর্বমোট ১ হাজার ৩১৩
জন শিক্ষার্থী। লিঙ্গভিত্তিক মূল্যায়নে দেখা যায়, এ বছর বোর্ডের
৩৬ হাজার ৭২৮ জন ছাত্রের মধ্যে
পাস করেছেন ১৫ হাজার ৮৫৭
জন, যেখানে ছেলেদের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৩.১৭ শতাংশে।
অন্যদিকে ৫৫ হাজার ৪৩৪
জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৮ হাজার ৪১৫
জন উত্তীর্ণ হতে পেরেছেন, যার ফলে মেয়েদের পাসের হার হয়েছে ৫১.২৫ শতাংশ।
ফলে পাসের হারে ছেলেদের চেয়ে প্রায় ৮ শতাংশে এগিয়ে
রয়েছেন ছাত্রীরা।
প্রতিষ্ঠানের
দিক থেকে চরম বিপর্যয় ফুটে উঠেছে চলতি বছরের মূল্যায়নে। কুমিল্লা বোর্ডের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ৪টি প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসের মুখ দেখলেও ১৫টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। বিগত বছর ২০২৫ সালে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৪৮.৮৬ শতাংশ,
যা এবার আরও কিছুটা হ্রাস পেল। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল
ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানসমূহ ইআইআইএন (EIIN) ব্যবহার করে বোর্ডের ওয়েবসাইটে এবং পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে সহজেই ফলাফল সংগ্রহ করছেন।